মানুষ কি নিয়ে অহঙ্কার করে? চেহারা? টাকা? মেধা? ক্ষমতা? নাগরিকত্ব? ডিগ্রি? কোনটা? কোনটা মানুষকে সুখ এনে দিতে পারে? আমি তার হিসাব মেলাতে গিয়ে প্রতিবার শূন্যে ঘুরপাক খাচ্ছি? কি নিয়ে হিংসা? ওর কি আছে যা আমাকেও পেতেই হবে? কিসের জন্য মানুষ মরিয়া হয়ে যাচ্ছে? চাকরী? টাকা? ভালো প্রতিষ্ঠান? কতদিন? কতক্ষন? কিসের অহঙ্কারে একজন মানুষ আরেকজনকে উপেক্ষা করে চলেছে?
আমি যখন আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়াই, আমি নিজেকেই মাঝে মাঝে চিনতে পারি না। আমার আগের ছবিগুলোর সাথে আমি নিজেই হতভম্ব হয়ে যাই। এটা কি আমি? সেদিন না স্কুল পাশ করলাম? তখনও আমি দেখতে এমন ছিলাম না। এখন প্রতিদিনই মনে হয় পাকা চুল দাঁড়ির পরিমাণ বাড়ছে। বয়স বাড়ছে। সেই সমান তালে পাল্লা দিয়ে কি মনুষ্যত্ব বাড়ছে? মানবিকতা বাড়ছে? বাড়ছে না তো। যেটা বাড়ছে সেটা অহঙ্কার। কিসের? আমি জানি না। কেনই বা? আমি জানি না। আমি শুধু একটা জিনিসই জানি, শরীরে যদি ক্যান্সার এর মত ব্যধি চলে আসে- উদাহরণ স্বরুপ বলছি, ঠিক তখন দুনিয়ার সব স্বাদ কিন্তু মিথ্যা হয়ে যাবে।
আমি আজকে আমার থেকে বয়সে অনেক ছোট, অর্ধেক বলা যায়, একজন এর কেমোথেরাপি নেয়ার আগে ও পরের ছবি দেখলাম। নিজের অজান্তেই চোখ দিয়ে পানি বের হয়ে বুকের উপরে পড়লো আমার। নিজেকে বললাম, “ভালো করে দেখে নাও। এটা কিন্তু তুমিই। তোমার এই ছবি ভালো করে দেখো আর কোন কোন বিষয় নিয়ে অহঙ্কার করবে, তার একটা লিস্ট বানাও”।
আমি অনেক অভিমানী। আমার রাগ একটু বেশি। আমি বড্ড বেশী ভালবাসি বলেই মনে হয় আমার রাগও একটু বেশী। আমি অল্পতেই রেগে উঠি। আমার কোন রাগ স্থায়ী হয় না। একটু পর নিজেই পুড়ে যাই নিজের রাগের উত্তাপে। আমি ভেতরে কোন কিছু বেশীক্ষণ ধরে রাখতে পারি না। কষ্ট হতে থাকে। তবুও কিছু জিনিস মনে ধরে রাখতে হয়। আমি ভুলে যেতে চাই। তবুও চাই সবাই ভাল থাকুক। কারও যেন কোন কিছু নিয়ে ভেতরটা পুড়ে না যায়, সেই প্রার্থনাই করি।